মূল্যবান ধাতুর বাজার

কমলেও এখনো রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। যদিও এখনো তা রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। যদিও এখনো তা রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। মূলত ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতায় বিক্রয়চাপ কিছুটা বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির দাম কমেছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। আবার যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায়ও লেনদেনে রক্ষণশীল অবস্থান নিয়েছিলেন অনেক বিনিয়োগকারী।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে গতকাল প্রতি আউন্স স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৬২১ ডলার ১৯ সেন্টে। আগের দিনের তুলনায় দরপতনের হার দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে গত মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৬৭৩ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছে, যা এখন পর্যন্ত ইতিহাসের সর্বোচ্চ। নিউইয়র্কের কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (কোমেক্স) ডিসেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স স্বর্ণের বিক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৫৯ ডলার ৭০ সেন্টে।

বাজারে গতকাল স্বর্ণের এ নিম্নমুখিতায় বড় প্রভাবকের কাজ করেছে ডলারের বিনিময় হারে পতন। আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে প্রধান কয়েকটি মুদ্রা নিয়ে গঠিত বাস্কেটে গতকাল ডলার সূচক বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। এতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ডলারে কেনাবেচা হওয়া পণ্যটির সংগ্রহ ব্যয়ও বেড়েছে।

আবার মোটাদাগে এখনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে থাকা স্বর্ণের বাজারে অনেক বিনিয়োগকারী গতকাল বাজার থেকে দ্রুত লাভ তুলে নেয়ার প্রত্যাশায় পণ্যটির বিক্রি বাড়িয়ে দেন (প্রফিট টেকিং)। এ বিক্রয়চাপ বৃদ্ধিও পণ্যটির মূল্যহ্রাসে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর সম্ভাবনার কারণে স্বর্ণের বাজারদর যেকোনো সময় আবারো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। লন্ডনভিত্তিক অনলাইন ট্রেডিং ব্রোকার প্রতিষ্ঠান এফএক্সটিএমের সিনিয়র রিসার্চ অ্যানালিস্ট লুকমান ওটুনুগা বলেন, ‘ডলারের বিনিময় হার ও প্রফিট টেকিং প্রবণতার কারণে স্বর্ণের দামে কিছুটা নিম্নমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে। তবে মূল্যবান ধাতুটির বাজারদর এখনো আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৬০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক স্তরের ওপর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যেই রয়েছে। এক্ষেত্রে পণ্যটির দরপতনকে সীমিত করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয়সূচক কমে যাওয়ার তথ্য।’

যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাণিজ্য খাতে সার্ভিস মার্জিন কমে যাওয়ার পাশাপাশি কাঁচামালের সংগ্রহ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আগস্টে উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয়সূচক অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে কমেছে।

এ ব্যয়সূচক হ্রাসের তথ্যের পাশাপাশি গত সপ্তাহে দেশটিতে অপ্রাতিষ্ঠানিক মজুরি খাতে প্রত্যাশার চেয়ে কম প্রবৃদ্ধি ও গত মার্চ পর্যন্ত কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান সংশোধন করে কমিয়ে আনার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডের মুদ্রানীতি শিথিল করে আনার সম্ভাবনা আরো জোরালো করে তুলেছে। বাজারে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ও সাপ্তাহিক কর্মহীনতার পরিসংখ্যান প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে লুকমান ওটুনুগা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার যে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তা হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মাসের পর অক্টোবরে আবারো সুদহার কমানোর প্রত্যাশাকে চাপে ফেলতে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে আবারো বাজারে বিক্রয়চাপ বেড়ে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৩ হাজার ৫০০ ডলারের পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। আবার এ মূল্যস্ফীতির হার তুলনামূলক কম হলে তা স্বর্ণের দামকে নতুন করে আবারো সর্বকালের সর্বোচ্চে তুলে নিয়ে যেতে পারে।’

আগামী বুধবারই ফেডের ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সেখান থেকে সেপ্টেম্বরে অন্তত ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদহার কমানো হয় বলে একপ্রকার নিশ্চিত বিনিয়োগকারীরা। এ সুদহার কর্তনের হার ৫০ বেসিস পয়েন্টও হতে পারে বলে মনে করছে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ। সিএমই ফেডওয়াচের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের হিসাবে এ কর্তনের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৮ শতাংশ।

বাজারে গতকাল মূল্যবান অন্যান্য ধাতুর দামেও দেখা গেছে নিম্নমুখী প্রবণতা। এসব ধাতুর মধ্যে রুপার দাম গতকাল কমেছে দশমিক ৩ শতাংশ। ধাতুটির আউন্সপ্রতি মূল্য নেমে এসেছে ৪১ ডলার ১ সেন্টে। একইভাবে প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ। বাজারে গতকাল পণ্যটি কেনাবেচা হয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৮০ ডলার ৬৪ সেন্টে। গতকাল দাম বেড়েছে কেবল শিল্প খাতে ব্যবহৃত আরেক মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের । দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে পণ্যটির মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ১ হাজার ১৮২ ডলারে ১১ সেন্টে।

আরও